যাচাইকৃত প্রশ্নমালা · IGDS9-SF

গেম আসক্তি টেস্ট (IGDS9-SF): গেমিং কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে? ৩ মিনিটের সেলফ-চেক

সেলফ-চেক শুরু করুন

সংক্ষেপে

IGDS9-SF প্রশ্নমালা জানতে চায়, গত ১২ মাসে মোবাইল, কম্পিউটার বা কনসোলে গেম খেলা আপনার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে। ৯টি প্রশ্ন, সময় লাগে প্রায় ৩ মিনিট; ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য। উত্তরের হিসাব হয় আপনার ডিভাইসেই, আমাদের কাছে কিছু পাঠানো হয় না। ফলাফল দেখায় উত্তরগুলো গবেষণায় ব্যবহৃত সতর্কসীমায় পৌঁছেছে কি না; এটি রোগনির্ণয় নয়।

  • প্রায় ৩ মিনিট
  • ৯টি প্রশ্ন
  • গোপনীয়: উত্তর থাকে আপনার ডিভাইসেই
  • ১৩+ বছর বয়সীদের জন্য

এটি একটি সেলফ-চেক, রোগনির্ণয় নয়। এতে প্রায় ৩ মিনিট লাগবে। এটি শুধু তথ্যের জন্য — এর মাধ্যমে কোনো রোগনির্ণয় করা যায় না, আর এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্পও নয়। আপনার উত্তর এই ডিভাইসেই থাকে; আমরা তা পাই না।

আপনার সেলফ-চেক

৯টি প্রশ্ন · প্রায় ৩ মিনিট · গোপনীয়: আপনার উত্তর এই ডিভাইসেই থাকে

এখানে যে প্রশ্নগুলো আছে সেগুলো আপনাকে গত ১ বছর (১২ মাস) ধরে আপনার গেমিং কার্যকলাপের উপর করা হবে। গেমিং কার্যকলাপ বলতে আমরা বুঝি কম্পিউটার/ল্যাপটপ বা গেমিং কনসোল বা যেকোনো ধরনের ডিভাইস (যেমনঃ মোবাইল ফোন, ট্যাব, ইত্যাদি) ব্যাবহার করে অনলাইন বা অফলাইনে গেম সম্পর্কিত কার্যাবলী।

১. আপনি কি আপনার গেমিং কার্যকলাপ নিয়ে খুব বেশি উৎসাহ বোধ করেন? (যেমনঃ আপনি আপনার গেইমের পরবর্তী রাউন্ড নিয়ে ভাবেন এবং পরবর্তী রাউন্ড কেমন হতে পারে সেটা নিয়ে চিন্তা করেন? আপনি কি মনে করেন গেইম আপনার দৈনন্দিন জীবনের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ?)
২. আপনি যখন গেইম খেলা কমিয়ে ফেলতে চান বা বন্ধ করতে চান তখন কি বিরক্তিবোধ, দুশ্চিন্তা এবং মন খারাপ হয়?
৩. আপনি কি মনে করেন গেইম খেলায় সন্তুষ্টি বা আনন্দের নিয়ে আসার জন্য আরো বেশি সময় ধরে গেইম খেলা দরকার?
৪. যখন আপনি গেমিং কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বা বিরতি দিতে চান তখন কি আপনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যর্থ হন?
৫. গেইমে আসক্ত হওয়ার কারনে কি আপনার পূর্ববর্তী যে শখ এবং বিনোদনের কাজগুলি ছিলো সেগুলোর প্রতি ইচ্ছা হারিয়েছেন?
৬. গেইম আপনার এবং আশেপাশের মানুষের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করছে এটা জানার পরও কি আপনি গেইম খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন?
৭. গেইমে আসক্তির কারণে আপনি কি আপনার পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক অথবা অন্যদের ধোকা দিচ্ছেন?
৮. আপনি কি সাময়িকভাবে নেতিবাচক মনের ভাব (যেমনঃ অসহায় বোধ, অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা) থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য গেইম খেলেন?
৯. গেইম খেলার কারনে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সম্পর্ক, চাকুরি, শিক্ষাগত বা পেশাগত কোনো সুযোগ কি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বা হারিয়ে ফেলেছেন?

এই মুহূর্তে বিপদে আছেন? ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। জরুরি অবস্থার জন্য এই ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করা হয় না।

এই সেলফ-চেক কী যাচাই করে

IGDS9-SF (ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার স্কেল–সংক্ষিপ্ত) গত ১২ মাসে আপনার গেমিং নিয়ে ৯টি প্রশ্ন করে — মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার বা কনসোল, অনলাইন বা অফলাইন, যেকোনো ডিভাইসে খেলা গেম।1 প্রতিটি প্রশ্ন গেমিং-সমস্যার একটি করে সতর্কসংকেত দেখে:

  • বেশিরভাগ সময় গেম নিয়েই ভাবা;
  • খেলা কমাতে চাইলে বিরক্তি, দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ হওয়া;
  • আগের মতো আনন্দ পেতে আরও বেশি সময় খেলার দরকার হওয়া;
  • চেষ্টা করেও খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে বা থামাতে না পারা;
  • আগের শখ ও বিনোদনে আগ্রহ হারানো;
  • অন্যদের সাথে সমস্যা হচ্ছে জেনেও খেলা চালিয়ে যাওয়া;
  • কতটা খেলছেন তা পরিবার বা অন্যদের কাছে লুকানো;
  • মন খারাপ থেকে পালাতে খেলা;
  • গেমের কারণে কোনো সম্পর্ক, পড়াশোনা, চাকরি বা সুযোগ ঝুঁকিতে পড়া।

গেম খেলা অনেক কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গেমিং ডিসঅর্ডার বলতে এমন একটি ধরন বোঝায়, যেখানে গেম খেলার ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যায়, অন্য আগ্রহ ও দৈনন্দিন কাজের চেয়ে গেম বেশি গুরুত্ব পায়, আর ক্ষতি হচ্ছে জেনেও খেলা চলতে থাকে — সাধারণত অন্তত ১২ মাস ধরে। যাঁরা গেম খেলেন, তাঁদের খুব ছোট একটি অংশের মধ্যেই এটি দেখা যায়।4

কীভাবে কাজ করে ও স্কোর কীভাবে হয়

প্রতিটি উত্তরের স্কোর ১ (“কখনোই না”) থেকে ৫ (“সবসময়”), তাই মোট স্কোর ৯ থেকে ৪৫। এই পাতায় প্রকাশিত দুটি নিয়ম ব্যবহার করা হয়; যেকোনো একটি মিললেই আপনার উত্তর গবেষণায় ব্যবহৃত সতর্কসীমায় পৌঁছায়:

নিয়মউৎস
মোট স্কোর ৩২ বা তার বেশিচীনের একটি গবেষণা, যেখানে এই সীমা গেমিং ডিসঅর্ডার আছে ও নেই এমন মানুষদের ভালোভাবে আলাদা করেছিল (সংবেদনশীলতা ৯৮.০%, সুনির্দিষ্টতা ৯১.৯%)3
৯টির মধ্যে ৫টি বা তার বেশি প্রশ্নে “সবসময়”স্কেলটির নির্মাতারা, যাঁরা “সবসময়” উত্তরকে ওই সতর্কসংকেত মিলে যাওয়া হিসেবে ধরেন1
আপনার উত্তরফলাফল
কোনো নিয়মই মেলেনিগবেষণায় ব্যবহৃত সতর্কসীমার নিচে
একটি বা দুটি নিয়মই মিলেছেগবেষণায় ব্যবহৃত সতর্কসীমা বা তার বেশি

ফলাফলে কোনো স্কোর দেখানো হয় না; দেখানো হয় আপনার উত্তর সতর্কসীমার কোন দিকে পড়েছে। গবেষকেরা অন্য সীমাও প্রস্তাব করেছেন, আর বাংলাদেশে এখনো কোনো সীমা যাচাই করা হয়নি।2

আপনার ফলাফলের অর্থ

সতর্কসীমার নিচে ফলাফল মানে, আপনার উত্তরে গেমিং-সমস্যার লক্ষণ কম। তার মানে এই নয় যে গেমিং কখনো সমস্যা তৈরি করে না: বাসায় ঝগড়া, রাত জাগা বা পরীক্ষার ফল খারাপ হতে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

সতর্কসীমা বা তার বেশি ফলাফল মানে, আপনার উত্তরে গেমিং জীবনে প্রভাব ফেলছে এমন অনেক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এটি রোগনির্ণয় নয়। এটি গেমিং ডিসঅর্ডার কি না, কিংবা সাথে অন্য কিছু চলছে কি না, তা কেবল একজন বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নেই বোঝা যায়।

অতিরিক্ত গেমিংয়ের সাথে প্রায়ই অন্য কষ্টও থাকে। কুড়িগ্রামের স্কুলশিক্ষার্থীদের এক জরিপে বেশি গেমিং-সমস্যার সাথে একাকিত্ব, বুলিং, বাবা-মায়ের তদারকি কম থাকা, তাঁদের সাথে সম্পর্ক দুর্বল হওয়া এবং প্রতিদিন বেশি সময় অনলাইনে থাকার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।5 দুশ্চিন্তা, মন খারাপ বা মানসিক চাপ থেকে পালানোর উপায় হিসেবেও গেমিং শুরু হতে পারে; তাই একটি প্রশ্ন মনের অবস্থা নিয়েও জানতে চায়।

এখন আপনি কী করতে পারেন

ছোট ও বাস্তব কিছু পরিবর্তন প্রায়ই কাজে আসে, বিশেষ করে যখন পরিবারের সাথে মিলে পরিকল্পনা করা হয়:

  • এক সপ্তাহ নিজের ধরন খেয়াল করুন। কখন খেলছেন, কতক্ষণ খেলছেন আর কেন শুরু করলেন — লিখে রাখুন।
  • সবাই মিলে সীমা ঠিক করুন। খেলার সময় আর থামার সময় ঠিক করে নিন, বিশেষ করে স্কুল বা কাজের আগের রাতে।
  • ঘুম রক্ষা করুন। রাতে মোবাইল ও কনসোল শোবার ঘরের বাইরে রাখুন, আর ঘুমানোর বেশ আগে খেলা থামান।
  • অফলাইন সময়ের পরিকল্পনা করুন। খেলাধুলা, বন্ধু, পরিবারের সাথে খাওয়া ও শখের কাজ থাকলে কম খেলা সহজ হয়।
  • চাপ সামলানোর অন্য উপায় খুঁজুন। মন খারাপ, দুশ্চিন্তা বা একঘেয়েমি থেকে পালাতে খেললে, বিশ্বস্ত কারও সাথে কথা বলা আরেকটি গেমের চেয়ে বেশি কাজে আসতে পারে।
  • বাবা-মায়ের জন্য: রাগ না করে আগ্রহ ও শান্ত ভাব ধরে রাখুন। বাবা-মায়ের তদারকি ও উষ্ণ সম্পর্কের সাথে গেমিং-সমস্যা কম থাকার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।5

খেলা কমানো খুব কঠিন হলে কথাভিত্তিক চিকিৎসা (সাইকোথেরাপি) সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (সিবিটি) অন্তত স্বল্প মেয়াদে গেমিং ডিসঅর্ডারের লক্ষণ কমিয়েছে।6

কখন সাহায্য নেবেন

নিচের যেকোনোটি হলে একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন — বিএমডিসি-নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট), সম্ভব হলে যিনি শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করেন, অথবা একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট:

  • ফলাফল গবেষণায় ব্যবহৃত সতর্কসীমা বা তার বেশি;
  • গেমিংয়ের কারণে ঘুম, পড়াশোনা, কাজ, স্বাস্থ্য বা সম্পর্কের ক্ষতি হচ্ছে;
  • খেলা কমানোর চেষ্টা করেও পারেননি;
  • বেশিরভাগ সময় মন খারাপ, দুশ্চিন্তা বা রাগ লাগে, কিংবা খেলতে না পারলে খুব বিরক্ত লাগে।

আপনার বয়স ১৮-এর কম হলে ফলাফলটি বাবা-মা, শিক্ষক বা বিশ্বাস করেন এমন কোনো বড় মানুষকে দেখান। তাঁরা সাহায্য খুঁজতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করতে পারবেন। বেসরকারি চেম্বারের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালেও এই চিকিৎসা পাওয়া যায়।

এই প্রশ্নমালা সম্পর্কে

IGDS9-SF তৈরি করেছেন Halley M. Pontes ও Mark D. Griffiths; এটি প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। এর ৯টি প্রশ্ন আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের DSM-5-এ ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডারের ৯টি মানদণ্ড অনুসরণ করে।1 পরে এটি বহু ভাষায় যাচাই করা হয়েছে।2

বাংলা সংস্করণটি ২০২২ সালে ইসলাম ও সহকর্মীরা তৈরি ও যাচাই করেন — ঢাকার স্কুলপড়ুয়া ৪২৮ জন কিশোর-কিশোরী গেমারের ওপর, যাঁদের গড় বয়স ছিল প্রায় ১৬ বছর; এর নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে।2 এই পাতার বাংলা প্রশ্নগুলো হুবহু সেই দাপ্তরিক ফর্ম থেকে নেওয়া, যা নির্মাতা অনলাইনে প্রকাশ করেছেন। মূল গবেষণাপত্রের উল্লেখ রাখলে যে কেউ অনুমতি ছাড়াই স্কেলটি ব্যবহার করতে পারেন।

এই প্রশ্নমালা সম্পর্কে

প্রশ্নমালা
IGDS9-SF — ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার স্কেল–সংক্ষিপ্ত (Internet Gaming Disorder Scale–Short-Form)
যাঁরা তৈরি করেছেন
Halley M. Pontes, Mark D. Griffiths (২০১৫)
লাইসেন্স
Free to use without asking permission: “you do not need to contact me to ask for permission to use any of the tests and resources provided in my website” (Dr Halley M. Pontes, the developer). The original paper must be cited.
বাংলা সংস্করণ
Bangla IGDS9-SF (Islam et al., 2022): the official Bangladesh-validated Bangla form, published on the developer’s website

IGDS9-SF: Pontes HM, Griffiths MD (2015). Measuring DSM-5 Internet Gaming Disorder: development and validation of a short psychometric scale. Computers in Human Behavior 45:137–143. Bangla version: Islam MS, Jahan I, Dewan MAA, Pontes HM, Koly KN, Sikder MT, Rahman M (2022). PLOS ONE 17(12): e0279062. Used without modification.

স্কোর যেভাবে হিসাব করা হয়

ফলাফল নির্দিষ্ট কিছু উত্তরের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক হয়, মোট স্কোর দিয়ে নয়।

ফলাফল যা বোঝায়
গবেষণায় ব্যবহৃত সতর্কসীমার নিচে আপনার উত্তর এই স্কেলে সম্ভাব্য গেমিং ডিসঅর্ডার চিহ্নিত করার সীমার নিচে: মোট স্কোর ৩২-এর কম, আর ৫টি বা তার বেশি প্রশ্নে “সবসময়” বেছে নেননি।
গবেষণায় ব্যবহৃত সতর্কসীমা বা তার বেশি আপনার উত্তর সম্ভাব্য গেমিং ডিসঅর্ডার চিহ্নিত করার সীমায় পৌঁছেছে: মোট স্কোর ৩২ বা তার বেশি, অথবা ৫টি বা তার বেশি প্রশ্নে “সবসময়”। আপনার উত্তরে দেখা যাচ্ছে, গেমিং দৈনন্দিন জীবনে — ঘুম, পড়াশোনা, কাজ, পরিবার বা বন্ধুত্বে — প্রভাব ফেলছে, এমন অনেক লক্ষণ আছে। এটি রোগনির্ণয় নয়।

সাধারণ প্রশ্ন

এই গেম আসক্তি টেস্ট কাদের জন্য?

১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী যে কেউ, যিনি মোবাইল, কম্পিউটার বা কনসোলে গেম খেলেন — কিশোর-কিশোরী, শিক্ষার্থী বা প্রাপ্তবয়স্ক। বাংলা সংস্করণটি ঢাকার স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর যাচাই করা হয়েছে। ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য এটি উপযুক্ত নয়। বাবা-মা সন্তানকে টেস্টটি দিতে উৎসাহ দিতে পারেন, তবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন যিনি খেলেন, তিনিই।

IGDS9-SF কতটা নির্ভরযোগ্য?

IGDS9-SF গেমিং-সমস্যা যাচাইয়ে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রশ্নমালা, আর ঢাকার কিশোর-কিশোরীদের ওপর এর বাংলা সংস্করণের নির্ভরযোগ্যতা ভালো পাওয়া গেছে। ৩২-এর সীমাটি চীনের একটি গবেষণায় ভালো কাজ করেছে, তবে বাংলাদেশে এখনো যাচাই হয়নি। তাই ফলাফলকে চূড়ান্ত উত্তর নয়, আলোচনার শুরু হিসেবে দেখুন।

আমার উত্তরগুলোর কী হয়?

কিছুই আপনার ডিভাইসের বাইরে যায় না। উত্তরের হিসাব হয় আপনার ব্রাউজারেই; তা আমাদের কাছে পাঠানো বা কোথাও সেভ করা হয় না। এই সেলফ-চেক যাঁরা ব্যবহার করেন তাঁদের অনেকের বয়স ১৮-এর কম, তাই এখানে ফোন নম্বর চাওয়া হয় না, কল ব্যাকের সুযোগও নেই। সাহায্য চাইলে ফলাফলটি বাবা-মা বা বিশ্বাস করেন এমন কোনো বড় মানুষকে দেখান।

আমি কি সন্তানের হয়ে এই টেস্ট দিতে পারি?

প্রশ্নগুলো যে খেলে তার জন্য লেখা, তাই সবচেয়ে ভালো হয় সন্তান নিজে একান্তে উত্তর দিলে এবং পরে ফলাফল নিয়ে আপনার সাথে কথা বললে। তার হয়ে আপনি উত্তর দিলে শুধু আপনার দৃষ্টিভঙ্গিই উঠে আসে, যা তার নিজের অভিজ্ঞতার চেয়ে আলাদা হতে পারে। দুশ্চিন্তা থাকলে একজন শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট আপনাদের দুজনের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারেন।

আমার ফলাফল সতর্কসীমা বা তার বেশি এসেছে। এখন কী করব?

শান্ত থাকুন: এই ফলাফল মানে বিষয়টি একটু ভালো করে দেখা দরকার, এটি কোনো রায় নয়। বয়স ১৮-এর কম হলে ফলাফলটি বাবা-মা বা বিশ্বাস করেন এমন কোনো বড় মানুষকে দেখান। খেলার সময় বা স্ক্রিন-মুক্ত রাতের মতো ছোট পরিবর্তন সবাই মিলে ঠিক করুন, আর একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের — যেমন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের — সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করুন। কখনো নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।

এই টেস্ট দিয়ে কি গেমিং ডিসঅর্ডার নির্ণয় করা যায়?

না। IGDS9-SF একটি স্ক্রিনিং প্রশ্নমালা: গত এক বছরে গেমিং-সমস্যার কতগুলো সতর্কসংকেত দেখা গেছে, এটি শুধু সেটুকু দেখায়। গেমিং ডিসঅর্ডার নির্ণয়ের জন্য একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের পূর্ণ মূল্যায়ন দরকার, যেখানে ঘুম, মন, পড়াশোনা বা কাজ, পারিবারিক জীবন এবং অতিরিক্ত গেমিংয়ের সাথে থাকতে পারে এমন অন্য সমস্যাও দেখা হয়।

রেফারেন্স

  1. Pontes HM, Griffiths MD. Measuring DSM-5 Internet Gaming Disorder: development and validation of a short psychometric scale. Computers in Human Behavior. 2015;45:137–143. — Original development and validation of the IGDS9-SF, with the developers’ scoring guidance.
  2. Islam MS, Jahan I, Dewan MAA, Pontes HM, Koly KN, Sikder MT, Rahman M. Psychometric properties of three online-related addictive behavior instruments among Bangladeshi school-going adolescents. PLOS ONE. 2022;17(12). — The Bangla IGDS9-SF, tested with 428 school-going adolescent gamers in Dhaka.
  3. Qin L, et al. Clarification of the cut-off score for IGDS9-SF in a Chinese context. Frontiers in Psychiatry. 2020. — Source of the cut-off of 32 used on this page.
  4. World Health Organization. Addictive behaviours: gaming disorder (questions and answers). — How ICD-11 describes gaming disorder.
  5. Problematic gaming behavior among adolescents in Bangladesh. Psychological Reports. Published online 2026. — School survey in Kurigram: factors linked with higher gaming-problem scores.
  6. Stevens MWR, et al. Cognitive-behavioral therapy for Internet gaming disorder: a systematic review and meta-analysis. Clinical Psychology & Psychotherapy. 2019. — CBT reduced gaming-disorder symptoms in the short term; longer-term effects were less clear.