নিজেকে বোঝার কুইজ

সন্তান কি মোবাইলে আসক্ত? বাবা-মায়ের জন্য স্ক্রিন ব্যবহারের সেলফ-চেক

সেলফ-চেক শুরু করুন

সংক্ষেপে

৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মায়েরা এই ৩ মিনিটের যাচাইয়ে দেখতে পারেন, স্ক্রিন সন্তানের ঘুম, পড়াশোনা, মেজাজ আর পারিবারিক জীবনে কেমন প্রভাব ফেলছে। গত এক মাস নিয়ে ১২টি প্রশ্ন আছে। আপনার উত্তরের হিসাব হয় আপনার ডিভাইসেই, আমাদের কাছে পাঠানো হয় না। ফলাফলে পরিবারের জন্য করণীয় থাকে; এটি রোগনির্ণয় নয়।

  • প্রায় ৩ মিনিট
  • ১২টি প্রশ্ন
  • গোপনীয়: উত্তর থাকে আপনার ডিভাইসেই
  • প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (১৮+)

এটি একটি সেলফ-চেক, রোগনির্ণয় নয়। এতে প্রায় ৩ মিনিট লাগবে। এটি শুধু তথ্যের জন্য — এর মাধ্যমে কোনো রোগনির্ণয় করা যায় না, আর এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্পও নয়। আপনার উত্তর এই ডিভাইসেই থাকে; আমরা তা পাই না।

আপনার সেলফ-চেক

১২টি প্রশ্ন · প্রায় ৩ মিনিট · গোপনীয়: আপনার উত্তর এই ডিভাইসেই থাকে

আপনার বয়স ১৮-এর কম হলে আপনার অনুভূতির কথা বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষক বা বিশ্বাস করেন এমন কোনো বড় কারো সাথে বলুন। বাবা-মা বা অভিভাবক আপনার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন।

গত এক মাসে আপনার সন্তানের (৬–১৭ বছর) কথা ভাবুন। নিচের কথাগুলো কত ঘন ঘন সত্যি ছিল?

১. ফোন, ট্যাব বা গেম বন্ধ করতে বললে আমার সন্তান খুব রেগে যায় বা ভেঙে পড়ে।
২. স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে সন্তানের ঘুমে প্রভাব পড়ছে — রাত জাগা, সকালে ক্লান্ত থাকা।
৩. স্ক্রিনের কারণে পড়াশোনা বা রেজাল্ট খারাপ হয়েছে।
৪. বাইরে খেলা, শখ বা সামনাসামনি বন্ধুদের সাথে দেখা করার আগ্রহ সন্তানের কমে গেছে।
৫. সন্তান লুকিয়ে স্ক্রিন ব্যবহার করে, বা কতক্ষণ ব্যবহার করেছে তা নিয়ে মিথ্যা বলে।
৬. খেলা বা স্ক্রল চালিয়ে যেতে সন্তান খাওয়া বা পরিবারের সাথে সময় বাদ দেয়।
৭. স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে বাসায় প্রায়ই ঝগড়া হয়।
৮. স্ক্রিন ছাড়া সন্তানকে অস্থির, বিরক্ত বা খিটখিটে মনে হয়।
৯. স্ক্রিন নিয়ে আমরা যে নিয়ম ঠিক করি, তা টেকে না।
১০. বললে সন্তান সামান্য আপত্তি করে হলেও থামতে পারে।
১১. দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে সন্তানকে খুব মন খারাপ বা গুটিয়ে থাকা মনে হচ্ছে। (স্কোরে যোগ হয় না)
১২. সন্তান মরে যেতে চাওয়ার কথা বা নিজের ক্ষতি করার কথা বলেছে। (স্কোরে যোগ হয় না)

এই মুহূর্তে বিপদে আছেন? ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। জরুরি অবস্থার জন্য এই ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করা হয় না।

সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহার যাচাইয়ে কী দেখা হয়

সন্তানের মোবাইল, ট্যাব, টিভি বা গেম খেলা নিয়ে যাঁরা চিন্তিত, সেই বাবা-মা ও অভিভাবকদের জন্য এই যাচাই। এখানে কত ঘণ্টা স্ক্রিন দেখছে তার চেয়ে স্ক্রিনের প্রভাবই বেশি দেখা হয়: থামতে বললে সন্তান কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, স্ক্রিন তার ঘুম, পড়াশোনা, বাইরে খেলা আর বন্ধুত্বের সময় কেড়ে নিচ্ছে কি না, লুকিয়ে ব্যবহার করে কি না, আর এ নিয়ে বাসায় কত ঘন ঘন ঝগড়া হয়।

দশটি প্রশ্নের উত্তর মিলে স্কোর হয়। এর একটিতে একটি ভালো অভ্যাসের কথা আছে: বললে সন্তান সামান্য আপত্তি করে হলেও থামতে পারে কি না। আরও দুটি প্রশ্ন স্কোরে যোগ হয় না। এগুলো জানতে চায়, দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে সন্তানকে খুব মন খারাপ বা গুটিয়ে থাকা মনে হচ্ছে কি না, আর সন্তান মরে যেতে চাওয়ার বা নিজের ক্ষতি করার কথা বলেছে কি না। এই প্রশ্ন দুটি রাখা হয়েছে, কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সাথে কখনো কখনো মন খারাপও থাকে — আর স্কোর যা-ই হোক, এমন লক্ষণে মনোযোগ দেওয়া দরকার।

কীভাবে কাজ করে, স্কোর কীভাবে হয়

গত এক মাসে আপনার সন্তানের কথা ভাবুন। স্কোরে যোগ হওয়া দশটি প্রশ্নে প্রতিটি উত্তরের স্কোর: “কখনো না বা খুব কম” ০, “মাঝে মাঝে” ১, “প্রায়ই” ২, আর “প্রায় সবসময়” ৩। বললে থামতে পারার প্রশ্নটির স্কোর উল্টোভাবে হিসাব হয়। মোট স্কোর ০ থেকে ৩০: ০–৯ বলে স্ক্রিন ব্যবহার মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ, ১০–১৯ বলে কিছু সতর্কসংকেত আছে, আর ২০–৩০ বলে স্ক্রিন ব্যবহার হয়তো গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠছে।

দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে সন্তানকে প্রায়ই খুব মন খারাপ বা গুটিয়ে থাকা মনে হয়েছে জানালে, ফলাফলে বিশেষজ্ঞকে দিয়ে মূল্যায়নের পরামর্শ যোগ হবে। মরে যেতে চাওয়া বা নিজের ক্ষতির প্রশ্নে “কখনো না” ছাড়া অন্য যেকোনো উত্তর দিলে, সাথে সাথে দেখানো হবে কী করবেন আর কোথায় সাহায্য পাবেন।

প্রশ্নগুলো ইংরেজি ও বাংলায় একসাথে লিখেছে Dr. MR Siddique Psychiatry Centre-এর দল; বাংলা প্রশ্নগুলো প্রকাশিত কোনো প্রশ্নমালার অনুবাদ নয়। প্রশ্ন আর স্কোরের সীমাগুলো গবেষণায় যাচাই করা হয়নি। যেহেতু উত্তর দেন বাবা-মা, তাই ফলাফলে সন্তানের মনের ভেতরের অনুভূতি নয়, আপনি যা খেয়াল করেছেন তা-ই উঠে আসে; আরও জানতে সন্তানের সাথে কথা বলুন। আপনার উত্তরের হিসাব হয় আপনার ব্রাউজারেই, আমাদের কাছে কখনো পাঠানো হয় না।

আপনার ফলাফলের অর্থ কী হতে পারে

কম স্কোর বলে, স্ক্রিন সন্তানের জীবনের সাথে মানিয়ে আছে। মাঝামাঝি স্কোর সাধারণত বোঝায়, স্ক্রিন ঘুম, পড়াশোনা বা একসাথে কাটানো সময়ের জায়গা নিতে শুরু করেছে। বেশি স্কোর বলে, স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে, আর পরিবারের নিয়ম টিকিয়ে রাখা কঠিন হচ্ছে।

অনেক শিশু-কিশোরের পক্ষেই স্ক্রিন ছাড়া কঠিন, তাই বেশি স্কোর মানে আপনার সন্তান পালনের ওপর কোনো রায় নয়। এটি আরও কাছ থেকে দেখার একটি সংকেত। গবেষণার পর্যালোচনায় বেশি স্ক্রিন টাইমের সাথে কম বয়সীদের বিষণ্ণতার লক্ষণ বেশি থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে, তবে নিরাপদ কোনো নির্দিষ্ট ঘণ্টার পক্ষে প্রমাণ খুব কম4। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টস শুধু স্ক্রিন টাইম নয়, সন্তান অনলাইনে কী দেখে ও কী করে, সেদিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেয়5।

অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কখনো কখনো অন্য কোনো কষ্ট সামলানোর উপায়ও হতে পারে। উত্তরবঙ্গের স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে এক গবেষণায়, গেম খেলায় যাদের সমস্যা বেশি, তাদের মধ্যে বাবা-মায়ের নজরদারি কম থাকা, বাবা-মায়ের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন, বুলিং বা একাকিত্বের কথা বেশি এসেছে3।

এখন আপনি কী করতে পারেন

পরিবারের সবাই মিলে স্ক্রিনের নিয়ম ঠিক করুন, আর বড়রাও তা মেনে চলুন। বাবা-মায়েদের জন্য ইউনিসেফের পরামর্শের মধ্যে আছে: প্রযুক্তি নিয়ে সন্তানের সাথে শুরু থেকেই নিয়মিত কথা বলা, অনলাইনে কোনো সমস্যার কথা জানালে শান্তভাবে সাড়া দেওয়া, আর পরিবারের জন্য যুক্তিসংগত সীমা ঠিক করা1। অনেক পরিবার যেসব পদক্ষেপ কাজের মনে করে:

  • রাতে শোবার ঘর স্ক্রিনমুক্ত রাখুন। ফোন আর ট্যাব শোবার ঘরের বাইরে চার্জ দিন, যাতে ঘুম আগে আসে6।
  • খাওয়া আর পরিবারের সময় স্ক্রিনমুক্ত রাখুন — শুধু সন্তানের জন্য নয়, বড়দের জন্যও।
  • স্পষ্ট ও নিয়মিত নিয়ম ঠিক করুন। কখন, কোথায় স্ক্রিন চলবে, আর সময় শেষ হলে কী হবে — তা একসাথে ঠিক করুন।
  • থামার পাঁচ বা দশ মিনিট আগে জানিয়ে দিন।
  • অফলাইন কাজে উৎসাহ দিন। বাইরে খেলা, খেলাধুলা, শখ আর সামনাসামনি বন্ধুদের সাথে দেখা ফাঁকা সময়টা ভরে দেয়6।
  • সন্দেহ নয়, কৌতূহল দেখান। সন্তান অনলাইনে কী উপভোগ করে আর কেমন বোধ করে, তা জানতে চান — তাহলে কিছু খারাপ লাগলে সে আপনাকে জানানোর সম্ভাবনা বাড়ে1।
  • যে অভ্যাস চান, নিজে তা করে দেখান — যেমন খাওয়ার সময় নিজের ফোনও দূরে রাখা6।
  • নিয়ম ভাঙলে শান্ত ও ধারাবাহিক থাকুন, আর আগে থেকে ঠিক করা ফলাফল মেনে চলুন।

পরিবারের জন্য আরও উপায় পাবেন শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমাদের গাইডে।

ছোট শিশুদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরামর্শ: ২ বছরের আগে বসে বসে স্ক্রিন দেখা নয়, আর ২ থেকে ৪ বছর বয়সে দিনে এক ঘণ্টার বেশি নয় — যত কম, তত ভালো2।

কখন সাহায্য নেবেন

স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে নিচের কোনোটি হলে শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করেন এমন একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞকে দিয়ে — যেমন বিএমডিসি-নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট) বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট — মূল্যায়ন করান:

  • স্কুলে যেতে না চাওয়া;
  • খুব কম ঘুম;
  • ডিভাইস নিয়ে নিলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা; অথবা
  • সন্তানকে বিষণ্ণ, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা গুটিয়ে থাকা মনে হওয়া।

কখনো কখনো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের পেছনে দুশ্চিন্তা, মন খারাপ বা এডিএইচডি (মনোযোগের ঘাটতি ও অতিচঞ্চলতা) থাকে। একজন বিশেষজ্ঞ এর কারণ খুঁজে দেখে পুরো পরিবারকে পথ দেখাতে পারেন। আর কোন লক্ষণগুলো খেয়াল রাখবেন, তা আমাদের শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য পাতায় বলা আছে।

সন্তান মরে যেতে চাওয়ার বা নিজের ক্ষতি করার কথা বললে বিষয়টি গুরুত্ব দিন, আর সেদিনই সাহায্য নিন। সন্তানের পাশে থাকুন, শান্ত থেকে তার কথা শুনুন, আর ওষুধ, ধারালো জিনিস ও কীটনাশক নাগালের বাইরে সরিয়ে রাখুন। এখনই বিপদের আশঙ্কা থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।

এই সেলফ-চেক সম্পর্কে

নিজেকে নিয়ে ভাবতে সাহায্য করার জন্য এই কুইজটি আমাদের দল লিখেছে। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই (validated) করা হয়নি, এবং এর মাধ্যমে কোনো রোগনির্ণয় করা যায় না।

স্কোর যেভাবে হিসাব করা হয়

উত্তরগুলো যোগ করে মোট স্কোর হিসাব করা হয় — কিছু উত্তরের গুরুত্ব বেশি, কিছু উল্টোভাবে গোনা হয় — মোট স্কোর ০ থেকে ৩০। প্রশ্ন ১১, ১২ প্রসঙ্গ বোঝার জন্য — এটি স্কোরে যোগ হয় না।

স্কোর যা বোঝায়
০–৯ স্ক্রিন ব্যবহার মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ — আপনার উত্তরে দেখা যাচ্ছে, সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহার মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে।
১০–১৯ কিছু সতর্কসংকেত আছে — আপনার উত্তরে দেখা যাচ্ছে, স্ক্রিন সন্তানের ঘুম, পড়াশোনা বা পারিবারিক জীবনের জায়গা নিতে শুরু করেছে।
২০–৩০ স্ক্রিন ব্যবহার হয়তো গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠছে — আপনার উত্তরে দেখা যাচ্ছে, স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে সন্তানের ঘুম, স্কুল বা পারিবারিক জীবনে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে।

সাধারণ প্রশ্ন

এই যাচাই কাদের জন্য, আর কোন বয়সের সন্তানের জন্য?

৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি বা অন্য অভিভাবকদের জন্য। আপনি সন্তানের বিষয়ে উত্তর দেন, তাই সন্তানকে কিছু জিজ্ঞেস করা হয় না। ৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ: ২ বছরের আগে বসে বসে স্ক্রিন দেখা নয়, আর ২ থেকে ৪ বছর বয়সে দিনে এক ঘণ্টার বেশি নয় — যত কম, তত ভালো2।

এই যাচাই কতটা নির্ভুল?

এটি আমাদের দলের লেখা একটি স্ব-মূল্যায়নমূলক কুইজ, কোনো প্রমাণিত পরীক্ষা নয়; তাই এর নির্ভুলতা মাপা হয়নি। বাবা-মা হিসেবে আপনি যা খেয়াল করেছেন, এটি তা-ই তুলে ধরে — যা গুরুত্বপূর্ণ, তবে পুরো ছবি নয়। চিন্তা থাকলে একজন বিশেষজ্ঞ যথাযথ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে যাচাইকৃত প্রশ্নমালা ব্যবহার করতে আর সন্তানের সাথে কথা বলতে পারেন।

আমার উত্তরগুলোর কী হয়?

উত্তরের হিসাব হয় আপনার ব্রাউজারে; সেগুলো আমাদের কাছে পাঠানো হয় না, কোথাও সংরক্ষণও করা হয় না। আমরা কখনো সন্তানের নাম বা স্কুলের নাম জানতে চাই না। আমাদের টিমের কাছ থেকে ফোন চাইলে ফলাফলের পর ফোন নম্বর দিতে পারেন। সেটি সবসময়ই ঐচ্ছিক, আর আপনি কল ব্যাক না চাইলে কিছুই পাঠানো হয় না।

পরিবারের অন্য কেউ বা আমার সন্তান কি এটি করতে পারে?

হ্যাঁ। সন্তানকে ভালোভাবে চেনেন এমন যেকোনো অভিভাবক উত্তর দিতে পারেন; বাবা ও মা আলাদাভাবে উত্তর দিয়ে ফলাফল মিলিয়ে দেখলে কাজে আসতে পারে। ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরী নিজের অভ্যাস দেখতে চাইলে তাদের জন্য লেখা মোবাইল আসক্তি টেস্ট ব্যবহার করতে পারে। দুটিই করে ফলাফল মিলিয়ে দেখা শান্তভাবে কথা শুরু করার ভালো উপায় হতে পারে।

ফলাফল বেশি এলে কী করব?

প্রথমে যা খেয়াল করেছেন, তা নিয়ে সন্তানের সাথে শান্তভাবে কথা বলুন। তারপর পরিবারের কয়েকটি স্পষ্ট নিয়ম ঠিক করুন — যেমন রাতে শোবার ঘর আর খাওয়ার সময় স্ক্রিনমুক্ত রাখা — আর নিজেও তা মেনে চলুন। সমস্যা চলতে থাকলে, বা সন্তানকে বিষণ্ণ, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা গুটিয়ে থাকা মনে হলে, শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করেন এমন একজন বিএমডিসি-নিবন্ধিত সাইকিয়াট্রিস্ট বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টকে দিয়ে মূল্যায়ন করান।

এই যাচাই দিয়ে কি জানা যাবে আমার সন্তান আসক্ত কি না?

না। এই যাচাই দিয়ে কোনো রোগনির্ণয় করা যায় না। আপনার চোখে স্ক্রিন সন্তানের ঘুম, স্কুল, মেজাজ আর পারিবারিক জীবনে কেমন প্রভাব ফেলছে, এটি শুধু তা-ই দেখায়। আসলে কী হচ্ছে, তা বুঝতে একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন, যিনি আপনার ও সন্তানের সাথে কথা বলে স্কুল, বন্ধুত্ব আর শরীর-স্বাস্থ্যসহ পুরো ছবিটা দেখবেন।

রেফারেন্স

  1. UNICEF Parenting. 10 ways to create healthy digital habits at home. — Talk early and often about technology, respond calmly to problems online, look for worries behind heavy use, and set family boundaries that make sense.
  2. World Health Organization. Guidelines on physical activity, sedentary behaviour and sleep for children under 5 years of age (2019). — Screen time for children under 5: not recommended under age 2; no more than one hour a day for ages 2–4, and less is better.
  3. Problematic gaming behavior among adolescents in Bangladesh. Psychological Reports (2026). — Bangladesh: school survey in Kurigram district; gaming problems were linked with little parental supervision, strained parent–child relationships, bullying and loneliness.
  4. Stiglic N, Viner RM. Effects of screentime on the health and well-being of children and adolescents: a systematic review of reviews. BMJ Open (2019). — More screen time was linked with more depressive symptoms; little evidence for a safe threshold of hours.
  5. Royal College of Psychiatrists. Technology use and the mental health of children and young people (College Report CR225, 2020). — Looks beyond screen time to content, bullying and safeguarding, with advice for parents.
  6. UNICEF Parenting. 3 ways you can help your teen manage screen time. — Curiosity, offline activities, modelling healthy use, and no devices in the bedroom overnight to protect sleep.

প্রথম পদক্ষেপটাই প্রায়ই সবচেয়ে কঠিন

সবকিছু গুছিয়ে বলতে না পারলেও চলবে। গোপনীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন এবং একজন বিশেষজ্ঞের সাথে খোলামেলা কথা বলুন — বাংলা বা ইংরেজিতে।